ব্লগ সংরক্ষাণাগার

শনিবার, ১ জুলাই, ২০১৭

তৈমুর খান


##--- বাবার ক্ষেত

বাবার ক্ষেত পাহারা দিচ্ছি
এই রাত নেমে আসছে
রাতের বিষণ্ণ ডানা
ঢেকে দিচ্ছে মৃদু প্রদীপ
শস্যগুলো হাত বাড়াচ্ছে
: কোলে নাও ! একবার আদর করো!

চারিদিকে কুহক ছড়িয়ে পড়ে
ধ্রুব তারাটির চোখে চেয়ে থাকে বাবা
আমিও সারারাত জেগে মাটির উত্তাপ চাই
মাটির শরীরে.....

##--- কেরোসিন

কেরোসিন ফুরিয়ে গেছে
দৈন্যের লম্ফু নিভে যাবে
আলোতে কী দেখতাম আমি
অন্ধকারে কী দেখব তবে  ?

হা করা রোশনি সব
কেউ কারো কাছেই থাকে না
  ডোমনির মতো দেহ দেয়
দেহে বিদ্ধ করার মতো লিঙ্গ কই  ?

পেছন ফিরেই গেছি
দূর্বাজলে শ্যামর়াধা খই
তাই নিধি
নিধিকে বসাই কোলে
কেরোসিন নেই বলে
মনে মনে রোদ

সব জানে কেউ কেউ
হাঁসের গলায় ডাকা ভাষা
শুনতে পাই
শুনেও বুঝি না
নষ্ট সব অর্থ এর
নির্জনে বসাই ...


বিপ্লব কুমার রায়

##--- ডেটিং

অকাল বর্ষার থিকথিকে কাদায় আটকে গ্যাছে পা
জানালার ঘুলঘুলি থেকে উঠে আসছে চোখ
বিনুনির ভাজে ভাজে কদম ফুল সাজাচ্ছে অভিসার
ডেটিংয়ের কলিংবেল বাজিয়ে যাচ্ছে অবিন্যস্ত সময়সূচি
ওয়াক থু সিঁড়ি ভাঙছে, সিভিক শুয়ে আছে অনিশ্চিত সিগনেচার

বুকে রুমাল বাঁধা, রুমালে  সাবান গন্ধ
সাবানে গান
ঘাম থেকে ছড়িয়ে পড়ছে দু একটা হাস্নুহানা আহ্লাদ
দুচারটে সংসারী জোনাকি টিপ টিপ করে পরাগ ছুঁয়ে দিচ্ছে

ব্যাঙ মিলনের দৃশ্যও ক্যামেরাবন্দী হয়
আর ডেটিং শুধু মিসকল দিয়ে যায়

##-----      ঘুঘু

উপচে পড়ছে প্রেম বাইকের হাসি
গুমোট সাইকেল খুলে নিচ্ছে সেন্ড্র গেঞ্জি
মেডিকিওরের ডিটেলস হিসেব নিচ্ছে ধৈর্যের

জাতীয় সড়ক ইঞ্জিন প্রাচুর্যে
পেনকিলার আর মলম খুঁজছে
ভ্যাকূম ক্লিনার বেয়াদপ আবর্জনা

হাই ভোল্টেজ ইলেকট্রিক তারে
বসে আছে একাকী এক ঘুঘু
তরঙ্গ প্রবাহে বুঝে নিচ্ছে সময়ের স্থবিরতা


কাজল দাস


##--- দ্রাঘিমা ও আগুন

সংযোগ হয় এভাবেই
আর দ্রাঘিমায় ফুটে ওঠে কমিশনার
কিছু কিছু সিলপ্যাক,
কোমরের টেবিল ছুঁয়ে
ছায়ারা ঢেউ তোলো
যেন জমাট বাধা নাভির শহর
কালো কালো সাহাপুর
একের পর এক ভেঙ্গে দ্যায়
         তোমাকে আমার মাঝে......


আদনানুর রশিদ

 ##--- হ্যালুসিনেশন ২


পকেটের ভেতর ছনাৎ ছনাৎ খুচরোকথা,
অডিটোরিয়ামের শেষ প্রান্ত আধিভৌতিক প্রেত,
প্ল্যানচেট এ যাকে ফিঙ্গারিং করে ডেকেছিলাম
সেই ই হয়তো !

' ই-মেইল পাঠাবেন অভ্রফন্টে --
স্কাইপ বা ওমেগলে এই ন্যাড়া মুণ্ডু দেখাবেন না প্লিজ,
পিলে চমকে যায় --
রাস্তায় কি কাদা ! উফ ! '
সবকিছুই চায়ের কাপে মেশাচ্ছি ।

মদ-কে 'দ্যা লাস্ট সাপার' এর মতো গিলে
এখন নিজেরাই সদলবলে ' ওয়াকিং ডেড ' ।
ভি সি আর এ ঘুরপাক খায় ব্ল্যাংক ব্লুরে ডিস্ক  ।

তাড়াহুড়োয় দরোজায় ডোন্ট ডিস্টার্ব মি নামক
ৎ ঝোলাতে ভুলে গেছি ;

স্কাইপে আবার দেখা হবে প্রাক্তন প্রেতের সাথে !

ঐন্দ্রিলা মহিন্তা

##--- আষাঢ় কণা

(১) .....
একটা করে জমিয়ে রাখা বৃষ্টি ,
তন্দ্রাচ্ছন্ন আষাঢ়ের মাথায় এসে হাত বুলোয় --
ব্যঙ্গ করে ঘুনশরীরটা ফেলে গ্রিলে আঘাত করে ॥

       (২) .....
পুকুরঘাটের শান বেয়ে উঠে আসা পদ্মপাতার 
চোখ চিকচিক করে ; সূর্যপ্রণাম বাসনায় 
তার শূণ্য কমন্ডৌল-ও আজ বর্ষা চাতক ॥ 

      (৩) .....
ছাদের শিরদাঁড়া বেয়ে নামতে থাকা 
জলের শরীরে , সযত্নে বুনো সবুজ আল্পনা এঁকে চলে --
ইঁট বার করা বৃদ্ধ ঘর-ও 
আঁচলা করা হাতে , আষাঢ়-যৌনতায় শান্তি খোঁজে ॥




##--- বোবা কথা

১ .....
রোজ রাতে অভুক্ত  শরীরটায়
মৃত্যুখিদে চাগার দেয় ,
মাঝরাতে ঠোঁটে করে চিতাকাঠ সাজিয়ে চলে !
সারাগায়ে নুন মেখে শ্রাবণ ডাক দেয় .......॥

২ .....
বাতি নিভিয়ে --
ওয়ার্ডওয়াথের আত্মা এসে চুমু খায় ;
ছাদে পড়ে থাকা রক্তমাখা 'হে ' দেখে ,
নাসরিন তত্ত্বে দেহ-বিলীন হয় ॥


পবন বর্মন


##--- একটা আইসক্রিম


একটা আইসক্রিমের ঘুম ভাঙতেই
চিৎকার করে উঠে
কে কোথায় আছো বাঁচাও বাঁচাও !
ডাক শুনে অনেকেই এসেছে ঠিক
কিন্তু মনের ফুল পাল্টে যাচ্ছে সহজেই ।
একদিক আকাশ একদিক মানুষ
বাতাস ,রোদ ,উষ্ণতা অরো অনেকেই এসেছে  ।
সব শরীর নগ্ন করে
মুখ ভিজিয়ে বড্ড বড্ড চুমু খাচ্ছে আইসক্রিমে ,
এটা একটা অশ্লীল ব্যাপার ।
একটা আইসক্রিম ,তার মধ্যে এত গ্রাহক
কার ঠোঁটে জুটাবে আসল টেস্ট ।

চন্দন দাস


##-----একটা অনিঃশেষ রাতের কবিতা

এইখানে রাতের পর রাত জমা হয়

সাদা পাতায় কালো অক্ষরে অক্ষর লিখে রাখি

জীবন--মৃত্যুর মাঝে যেটুকু সময়!

প্রেম ভালবাসা সম্পর্ক কিছুই লেখা নেই

আদিখ্যেতার নমুনা কিছু আছে -

ওই যেমন বিবাহ বন্ধুত্ব আত্মীয় স্বজন পরিজন

একটা তালেগোলে পাকানো গুরুচাণ্ডালী বিষয়

শব্দের গায়ে যেটুকু আশ্বাস জড়িয়েছি

ওসব জোনাকিদের কাছ থেকে ধার করা।

টেবিলের ওপর মোমবাতি বহুযুগ নিভেগেছে

এখন ওটুকুই ভরসা এরকম গভীর রাতে !

কঙ্কালসার ভাঙাচোরা বর্ণের নিস্তব্ধ কবিতা

ডি.এন.এ পরীক্ষা হলে সামনে আসবে

প্রতিরাতের কত রক্তক্ষরণ ইন্দ্রিয় জুড়ে -

চক্ষু-কর্ণ-নাসিকা !

========================

বিশ্বাস একটা ভুল শব্দ

একটা অস্বাভাবিক আত্মহত্যা! মৃত্যু!

শবদেহের চারপাশ ঘিরে আটকে আছে

যুক্তি-তর্ক পাল্টা যুক্তি ময়নাতদন্ত

ততক্ষণে লাশটার তিনবার মৃত্যু ঘটেছে।

কয়েকজন বলছে ছেলেটা বড্ড লোভী ছিল

কেউ বলছে ছেলেটা খুব অভিমানী ছিল

আবার অনেকে বলছে বড় অহংকারী ।

দাওয়ায় বসে শুধু তার মা আকাশ দেখছে

আর বিড়বিড় করে ছেলেটা বড্ড জেদি ছিল

সাত বছর ধরে একজনকেই ভালবেসেছে

    মানুষকে বিশ্বাস করেছিল!
============================

প্রতিদিন ফুলদানিতে নতুন নতুন ফুল সাজাও

আমাকে মুগ্ধ করার লোভে ভুলেযেতে বসেছ

      বাগানের প্রতিটি ফুল আমার ভীষন প্রিয়।

আমার শখের বাগানে পা টিপেটিপে ঢুকে পড়ো

পছন্দ মতো; ধর্ষক কাঁচি-র ডগায় ছেঁটেফেলো

                          এক-একটা সৃষ্টি-সুখের বৃন্ত!

আমি শুয়েথাকি প্রতিটি বৃন্ত-মূলের শরীরে শরীরে

আমাকে অবাক করে; তুমি আমাকে দেখতে পাওনি!

আমাকে ছুঁ-তে পারেনি তোমার পরিপাটি হাতের দক্ষতা।

নিগূঢ় সান্ধ্য তপস্যা আমাকে মুগ্ধ করার লোভে

ভুলেযেতে বসেছ,  আজো জানা হয়ে উঠেনি

         

               আমার ইচ্ছেটা কি?

                         






ফণী বর্মন


##----  বিছানা

বিছানা!বিছনা!বিছানা!
তোমার নেইতো কোনো ছানা,
তবু কেন তোমার কোলে এতো
লুটোপুটি।
যদিও নেই দিনে কদর
রাতে তোমার বেজায় কদর;
রাত পোহালে কমায় কদর।
ময়লা হলে বেজায় মারে
মুগর দিয়ে যে যা পারে,
দেহখানা ছিন্ন করে।
তবুও তুমি চুপ,
দিচ্ছ শুধু সুখ।


অনিমেষ বিশ্বাস


##--- শৃঙ্খল

আক্রান্ত
          জুই ফোটা ভোর
ঠোঁটে ঠোঁট রাখ
                       শেষ রাত
কি জানি কখন
সূর্য কেড়ে নেয়
টিউব লাইট হাউসফুল
কিন্তু  প্রতিদিন....


সুখবিন্দর সরকার


##---- সৃষ্টির ছেঁড়াপাতা

সৃষ্টির ছেঁড়াপাতায় অনেক নাম আছে
আমার বুকের কলমে তারা ডগমগ ৷
তুমি আশ্চর্য হয়োনা
বাতাসে মেয়েলি সুবাষ
আর আকাশে ভোর দেখে ,
চাঁদও লজ্জা পেয়েছিল ।
জলের দামে বিক্রি হয়েছিল
প্রেম
আর সোহাগ রাতের ফুল ৷
ঘাসের মাথায় নবসৃষ্টির
বীর্যরা চরণ ধোয়ায়,
আর্ত অশ্রুজলে, আর
জমা হয় সৃষ্টির ছেঁড়াপাতায় ।


বিশাল দাস


##----  এমন বৃষ্টির দিনে

বৃষ্টির দিনে একটা শহর,
একলা একলা আজ,
সকাল থেকে বৃষ্টি পরছে,
মেঘলা মেঘলা সাজ।

রাস্তায় আজ জল জমেছে,
ওই যে দাঁড়িয়ে ট্রাম,
জানালার পাশে বসে তুমি,
কেউ নেই তোমার পাশে,
না হয় আমিই বসলাম।

আড়চোখে দেখি,
ব্যস্ত তুমি বাক্যালাপে,
ইলশেগুঁড়ির সাথে।
নিজের মনে বকলে,
তোমায় দেখতে দারুণ লাগে।

সাহস পেয়ে তাকালাম আমি,
দেখলাম তোমার মুখ।
ভরা বিদ্যুৎ তোমার ঠোটে,
দেখে আমি লাজুক।

সময়টা কি থেমে গেল নাকি,
নাকি থেমেছে ট্রাম।
দেখি তুমি নামছ ট্রাম থেকে,
আমি কোনমতে নামলাম।

ভেজা বৃষ্টির একা ট্রাম স্টপ,
অল্প গোটানো ভেজা চুড়িদার,
ঝাপসা বর্ষাকাল।
জলের কুঁচি ভিজিয়ে দিচ্ছে,
তোমার নরম গাল।

দেখি তুমি হেঁটে যাচ্ছ,
তোমার পথের দিকে,
দৌড়ে গিয়ে আমি ধরলাম,
তোমার নরম হাত।

ঘুরলে তুমি আমার দিকে,
চোখে তোমার কত কথা।
দুজন দুজনের হাত ধরে থেকে,
কি সুন্দর নীরবতা।

ভিজে চুল আজ পথ ভুলে যাক,
কথারা ভিজুক ঠোটের কোণে।
তবুও তুমি চুল খুলে রেখো,
তোমার জন্যই বৃষ্টি নামে।


দুলেশ সরকার


##----   পিতৃ আকাশ

অবশিষ্ট মেনে চলে আকাশ মর্ত অধদেশ প্রতিমা
বালির পা রেখা
পানি ডুবে নুন খাওয়া মসৃণ খোলস
পিটুইটারির রেড সিগন্যাল গ্রীন
টাইফয়েড এর ডারা অনাথ হয়
গেলা ধোঁয়ায় বজ্র নেয় ফুলকপি
খবর শিকার ফলে দালানকোঠা
হেন বুলেটিন খসে যায় না


দীপক আঢ্য


##----  দাঁড়াও অপেক্ষা কর

অবশ্যম্ভাবী বিচ্ছেদ কড়া নাড়ছে দরজায়

কান্নার পিচ্ছিল পথ বেয়ে

ধীরে ধীরে এসেছে  ভাবলেশহীন মুখে

আলিঙ্গনের অপেক্ষায়

দাঁড়াও ওখানে

আরও দুদণ্ড স্বাদ নিই অতৃপ্ত ভালোবাসার

দৃষ্টি ধূষর হলে

সাথে নিও, অন্ধকার পথে

সোহাগি আঁচলে দেখ

কুড়িয়েছে রাই বকুলের সুবাস

তাকে আরও একবার ছুঁতে দাও

আমার জন্যে সে ও অপেক্ষায়

আসন্ন অবেলার সীমান্তে


সৌমেন সরকার


##---  দৃষ্টিকোণ

একা একা শুয়ে আছি খাটে,বালিশে
মাথাটা দিয়েছি এলিয়ে;ভাবছি তোমায়,
তোমার কথা,আর দেখছি বৃষ্টির প্রতিটা বিন্দু।
বারিধারার প্রতিটা কুঁচিতে খুঁজছি তোমায়!
আঙুল দিয়ে ভাঙছি,গড়ছি,তবুও অসমর্থ,
তোমায় তন্ন তন্ন করে খুঁজেও পাচ্ছিনা সাড়া।
ডান হাত বাড়িয়ে তোমার ঠোঁট খুঁজছি,আর
বাম হাতে এলোমেলো ভিজে চুল।নাকে পাচ্ছি
তোমার উষ্ন গন্ধ!আর কান্না যত নালিশে।

কল্পনা করছি তোমার আজানুলম্বিত কেশবাহার!
হৃদয় দগ্ধ হয়ে গেল,চাই আলো,চাই বাতাস।
একটু বাঁচতে চাই,আর তোমার কথা চাই ভাবতে,
এলোমেলো চিন্তাগুলো করে বেড়াই শুধু তাড়া;
একটু দাঁড়াই,একটু বাঁচি;আর নিই প্রাণ ভরা নিঃশ্বাস।


দেবব্রত তাঁতী


##---  দোষী

আমি আকাশ ছুঁতে চেয়ে ওপরে তাকিয়ে
হাঁটতে হাঁটতে হোঁচট তারপর মাটির ওপর
মাটি হয়ে শুয়ে

কতজন মাড়িয়ে গেলো দূর্বাঘাস ভেবে

এক হাত বাড়িয়ে তুলে আনার কেউ নেই
এই অন্ধকারের পথ থেকে ,
হয়ত চিরদিনই অন্ধকারে

সবভুলের আঙুল আমার দিকে
এখন অবহেলার পাত্র , ফিরেও কেউ তাকায়না

নিজের সর্বনাশ নিজেই ডেকে এনে
নিজের কাছে নিজেই দোষী এখন ।

হায় রে...


প্রসাদ রায়


##---  জানালার আলো

চোখে চোখ গেল লেগে
মুহুর্তও আটকে গেল স্তব্ধতায়

নাম নাজানা এক পাখি উড়ে এসে বসলো
কাঁঠাল গাছে, পথকুকুরেরা ডেকে  উঠলো
ঘেউ ঘেউ, তবু দৃশ্যছাড়া

দৃশ্য এক,স্মিতমুখ
বধূটি বসেছিল একা
জানালা  করে আলো

সে মুগ্ধতা পথিক কবিকে ছুঁলো, প্রতি
মুগ্ধতা বধূটিকে
বধুটি দেহাতি তায় যুবতী আবার
কবি বাঙালি যুবা,কথা কিছু হোল কিনা হোল
হাওয়া উসকানিতে বেহায়া পরকীয়া  খোঁজে,বুঝি পাড়া জাগিয়ে
উঠবে  ঝড়ে

তবে কে বলবে ওকে
ভালোলাগা কি কোন ব্যাকরণ মানে?


বিকাশ চন্দ্র বর্মন


##---  ঘুণের বাসা

ফুলকপির আলোতে ঘুমের বাসা
কোন এক দক্ষিণাভাতের ফেঁনা
ঘুনচেন রমণ রমণীর কাপর
                    বারুদ-মহুয়ার নীচে
অবসাদের বুট দরিদ্র হয়ে যায়
আঁধপোড়া পাইন বনে
               ৪ জি'র ছড়াছড়ি,
একটা চিহ্ন ছিল পাতাদের অক্ষরে
বাক্য নেই, পাকা দাড়ি নেই
বাতাসের পিছু পিছি ছুটেছিল
                       উদ্ধারের আপোশ
অবসাদের আংটি খুলে গেলে
গাছেদের ঘুম
ঘুণ জেগে ওঠে শিৎকারসহ


সঞ্জয় সোম


##--- দশদিগন্ত

আমাদের শব্দের মুখগুলো পঞ্চমুখী ফুল
এখন এ ভাবে ভাবছি
ভালো লাগছে ভাবতে

চার পাঁচ দিকে তাকালে চার্দিক শেখা হয়
শিখতে শিখতে আমাদের অভিজ্ঞতা
আমরা অভিজ্ঞতা লিখে লিখে পঙক্তি সাজাই

খন্ডকালে নিজেকে দেখে দেখে লেখা       চার্দিক শেখা

বেঁচে থাকাই যখন আমদের কবিতার চলাচল
তখন পঞ্চমুখ দশদিগন্ত জুড়ে দেবো কবিতায়

আমাদের জীবন আমাদের খন্ডকালের যোগফল

কবিতার ভেতরে আমরা আছি
শিখছি পঞ্চমুখীর কাছে       যাবো দশদিগন্তে


প্রদীপ মণ্ডল


##---- এক মাত্র আপন

আমি সমাজের দিকে হাত বাড়িয়েছি সহযোগিতার,সমাজ প্রশ্ন করেছেন বর্ণের। চেয়েছি সরল জীবন, 
দিয়েছে কুটনৈতিকতায় ভরে। 
আমি রাষ্ট্রের কাছে চেয়েছি ভাত
হাতে তুলে দিয়েছে অস্ত্র। 
চেয়েছি অধিকার পেয়েছি দেশদ্রোহী সিরপা। 
আমি প্রতিবেশীর কাছে চেয়েছি সহানুভূতি আমাকে দিয়েছে ক্রূরতার বজ্রমুষ্টি। 
আমি মানুষের কাছে পেতেছি হাত ভালোবাসার, উতরে দিয়েছে প্রবল ঘৃণা।
আমি নারীর কাছে চেয়েছি আশ্রয় 
তারা চেয়েছেন বশ্যতা। 
আমি মৃত্যুকে চেয়েছি 
সে আমাকে আপন করে নিয়েছে।


অভিজিৎ আচার্য্য

 ##--- সব ভোলানোর জন্য

বৃষ্টি শেষে শহর জুড়ে চিকচিকিয়ে রোদ ওঠে যখন, আধ জ্বলা নিকোটিন মুখটা পিঠে তুলে নেয় আধুনিক ঝোলাখানা, আনমনা রিংটন জুড়ে তখনই বেজে ওঠে খোলা আকাশ, বিবাগী চাঁদ আর যুদ্ধ শেষে ঘরে ফেরা একলা সৈনিক।

বন্ধ লোহার গেটে বেজে ওঠা মন্ত্র গিলিয়ে যখন ফেরত মেলে ঝামটা, ছেঁড়া মানি ব্যাগ হাতরে তখনই খোঁজ পাওয়া  যায় চ্যাপ্টা গোলাপটার।

কালচে গলি, ফুটন্ত চা, দেয়াল ভর্তি লাল পিক আর বসন্ত ছাপ হলদে দাঁত গুল যখন হামলে আসে জাপটাতে তখনই সেতু হয়ে ওঠে বেগুনী, ডাক মেলে ঘরে ফেরার।

চুন খসা স্যাঁতস্যাঁতে দেয়াল যখন আধো আলোতে একাত্ম, টালির কোনায় লেগে থাকা জ্যোস্না তখনই গল্প শোনায় আলোকবর্ষ দূরের এক জাদুকরের।

স্বপ্নপরি নেমে আসে তখনই, ঘুমের পোশাক পরে, সব ভোলানোর ছুঁতোয়  সর্বস্ব হরণ করে॥


পায়েল খাঁড়া


##--- কৃষ্ণচূড়া

জানো বন্ধু—
তোমার সেই কৃষ্ণচূড়াটায় আজ প্রথম ফুটেছে ফুল,
বসন্ত দিয়েছে তার প্রথম উপহার।
রিক্ত কুঞ্জ ভঁরে দিয়েছে রাঙা মঞ্জরিতে,
ঢেলে দিয়েছে আপন শ্যামল সোহাগ
যেন—নতুন প্রণয়ের ছোঁয়ায় জেগে উঠেছে কোন নব কিশোরীর রূপের বাহার!
          তোমার কৃষ্ণচূড়া
না জানি কোন যাদুবলে, হয়ে উঠেছে আজ কোন অপার্থীব পারিজাত?
কি মাতাল তার সৌরভ,
কি মোহিনী তার রূপ!
তার ছোঁয়ায় মনে জাগে এক অনুভুতি অনন্য।
খানিক পোষমানা—খানিক যেন বন্য।
জানি, আজ তুমি অনেক দুরে—
হয়ত এ খবর অতি সামান্য তোমার ব্যস্ততায়,
তবু না ব’লে কি থাকা যায়?
হয়ত বাধ্য হ’য়েই নিয়েছ তুমি এই দুরত্বের নির্বাসন।
জানি না—শুধু জানি,
আমি রেখেছি বেঁধে তোমায় আমার স্মৃতির আনমনা সুরে,
আজ শুধু এটুকুই আমার প্রয়োজন।
তাই ওই কৃষ্ণচূড়ার’ই মত
থাকব আমিও তোমার অপেক্ষায় রত।
আজ বসন্ত এসেছে ওর তরে,
জানি, একদিন তুমিও ফিরবে আমাদের সেই ফেলে আসা খেলাঘরে।
আর ততদিন এই কৃষ্ণচূড়াই থাক__তোমার দোসর হয়ে
                       আমার হিয়ার পরে।


মোহন গায়েন


##--- ছদ্ম-অনুরাগ

তুমি আলো ভালোবাসো তবে
জ্যোৎস্নার ঢেউয়ে হাবুডুবু খাওয়া
নিষ্প্রভ তারাদের বেদনার রাত,
তুমি দেখোনি |

তুমি বৃষ্টিকে ভালোবাসো তবে
ক্রন্দসী-বালা , ঘোর মেঘমালা 'কেন কাঁদে',
তুমি তা ভাবোনি |

তুমি ফুল ভালোবাসো তবে
তোমার কারণে ফুলহীন হওয়া বৃক্ষের ব্যথা ,
তুমি বোঝোনি |

তুমি কবিতাকে ভালোবাসো তবে
কবির হৃদয়ে ফল্গুধারার ন্যায় বয়ে যাওয়া বেদনার ইতিহাস,
তুমি শোনোনি |
 


সুকান্ত পাল


##--- টগরের আত্মবিলাপ
.
যেদিন আমার জন্ম হয়েছিল,
দিগন্ত ছোঁয়া নীলিমার অস্তাচলে,
সকালে সোনার রবি পূর্ব আকাশে উঁকি দিয়ে,
আমাকে স্বাগত জানিয়ে ছিলো!
শান্ত স্নিগ্ধ ভোরের ফুরফুরে হাওয়ারা,
বারবার ঘুরে ফিরে এসে,
আমার নাভি, নিতম্ব, ওষ্ঠ স্পর্শ করে,
বেঁচে থাকার আশ্বাস দিয়েছিল!
দূর থেকে ভেসে আসা প্রভাতি গান,
আর পাখিদের কিচিমিচি কলাতান,
ভোরের মায়াবী নিস্তব্ধতা কাটিয়ে,
একটি ব্যস্ততম দিনের সূচনা করেছিল!
আমাকে সেদিন জন্মাতে হয়েছিল,
যেদিন গগনের ললাটে রূদ্রদেব,
প্রলয়ের হুঙ্কার দিয়ে,
প্রখর তেজে জ্বলে উঠেছিল ।
সাহারা, গোবি, থর কিংবা কালাহারি,
শুধু তাই নয়!
পৃথিবীর সমস্ত বালুকা রাশি,
যেদিন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল:
আমাকে সেইদিন জন্মাতে হয়েছিল ।
সাধ করে আমার নাম রাখা হয়েছিল " টগর "
যদিও নামের সার্থকতা নিয়ে কোনদিন,
এই অবাক পৃথিবীর কাছে,
প্রশ্ন করা হয়ে ওঠেনি।
তবুও তো সেদিন অবাক হয়েছিলাম,
যেদিন তোমাদের কচি-কাঁচা ছেলের দল,
আমার শাস্তির নিড়ে প্রথম ঢিল ছুঁড়েছিল!
আমার সদ্য কুঁড়ি ফোঁটা যৌবন!
সেদিন তোমাদের খাম খেয়ালিপনার কাছে,
ধর্ষিত হয়েছিল বারংবার।
এক, দুই, তিন করে সহস্র আঁচড়ের দাগে,
আমার যৌবন সেদিন বিবর্ণ হয়েছিল:
জানি না ওরা কি পেয়েছিল!
তবুও তো নীরবে শতশত নিস্পাপ,
চম্পা, চ্যামেলি কিংবা করবীর মতই,
আমাকেও অকালে ঝরে পড়তে হয়েছিল।
এরপরও আমাকে বহুবার জন্মাতে হয়েছে,
কখনো কামিনী, কখনো যামিনী,
কখনও বা জবা, শিউলি, জুঁই!
কখনও বা মালতী হয়ে,
আঁধার গলিতে দলিত হয়ে,
সলিল সমাধি দিয়েছো মাটিতে।
কখনও বা মল্লিকার সাজে,
গোলাপ হয়ে প্রেয়সির শাড়ির ভাঁজে,
শরীরের খাঁজে খাঁজে ঢেলে দিয়েছো বিষ!
তবুও আমি প্রতিবাদ জানাই নি,
বারবার তোমাদের কাননকে শোভিত করেছি,
বাতাসকে সুবাসিত করেছি,
কখনো তোমাদের প্রয়োজনে,
মন্দিরে পুরোহিতের ফুলের ডালিতে,
কখনও বা মসজিদের দুয়ার সজ্জিত করতে,
নিজেকে করেছি উৎসর্গ!
তবুও " বাঁশি ফুল " আখ্যা দিয়ে,
যখন তোমরা আমাকে এড়িয়ে চল,
আমার আর কষ্ট হয় না মানব,
যারা নারী রূপি জননীর মর্ম বোঝেনা,
তাঁরা এই সামান্য টগরের আর্তনাদ কেমনে বুঝবে,
তাই আমাকে বারবার জন্মাতে হয়,
সঙ্গে নিয়ে একবুক যাতনা আর মৃত্যু ভয়।


প্রকৃতি সরকার


##--- বিশ্বাস বিস্মৃত

রণে বিভীষিকা
করুণ চাহনি ফেরে

ঊর্মি ভাঙে বেলাভূমিতে
জলস্রোতে লেখা মিলিয়ে যায়

কথিত স্থবরও  অস্থায়ী হয়
বিশ্বাস বিস্মৃত হয়



##--- অমূলক


বিরহের পিয়াসী মন
প্রেমে বড় অনিহা

শীত করেছে খুব
বিছানায় দীর্ঘ আহ্বান

পেটে বাঁধন
নিঃশর্ত বহিষ্কার।

তুলি রুপকথা ব্যানার্জ্জী


##-- প্রাক্তন

#কোনদিন ও কি হতে চেয়েছিলি,
আমার বর্তমান....?
যে আজ হঠাৎ হয়ে গেলি প্রাক্তন.....?
উত্তরেরা দিশা হারায়,
তাই প্রশ্নগুলো করে যায়,
আজো আর্বতন

#পুরানো জলছবি যত,
রয়েছে তারা নোনা জলে বন্দী,
কানাগলির শেষটায় আছে নাকি এক রাজপথ......??
জবাব চায় তারা!
কেবল ই খোঁজে পালাবার ফিকির ফন্দী

#কিছু উত্তর স্হান করে নেয়,
চোখের পাতায় ঘেটে যাওয়া কাজলে,
আর প্রশ্নগুলো একে একে চাপা পড়তে থাকে,
হৃদয়ের পাজঁর ভাঙা কংক্রীটের দেওয়ালের নীচে,
আজ নিখোঁজ তারা যেন কোন সে আকালে//

#কিন্তু তবুও..!
তবুও কখনো যদি হঠাৎ,
এক্কেবারে হঠাৎ যদি..!

#সেই নোনা জলের সোঁদা স্রোতে হয় একটা ঝোড়ো ঘুর্ণি সৃষ্টি.!
আর সেই ঘুর্ণি থেকেই ঝরে পরে অঝোর ধারায় বৃষ্টি..!

#সহসা আঁছড়ে পড়ে একটা দীর্ঘকায় সুনামির ঢেউ,
আর এক লহমায় ভাষিয়ে নিয়ে যায়,
সহস্র বছর ধরে জমতে থাকা সেই সব কতশত ইট কাঠ আর পাঁজর কংক্রীট আস্তরণ,
তখন কি দেখতে পাবে তোমরা কেউ.... ?

#যদি দেখতে পাও তো দেখবে..!
চরম অনাদর আর অবহেলার অভিমানে;-
আজকের বর্তমান মুখ লুকিয়েছে চিরতরে,
অতীতের খাতায়।
সেই না পাওয়া প্রশ্নগুলি কংক্রীটের পাঁজরে উত্তর সাক্ষী রেখে গেছে,
এক একটি ফসিলে;-
বড়ো বেশি উজ্জ্বল, বড়ো বেশি প্রাণবন্ত।
আর সেদিনের প্রাক্তন হঠাৎ এসে পড়েছে বর্তমানের পাতায়।
বুকে তুলে নিয়েছে এক একটি ফসিল কে ,
আলিঙ্গন করেছে পরম মমতায়,
আজ তারাই একমাত্র জীবন্ত ।

   

অয়ন মণ্ডল


##--- অনামী কবি

আমির খান মানেই যখন
            ব্লকবাস্টার হয়
আমি তখন শঙ্খ ঘোষ পড়ি

কাল যখন একটা কবিতা লিখবো লিখবো করছিলাম
তখন সত্যজিত রায়ের ফেলুদা মাথায় বন্দুক ধরল

দুটো শব্দ চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছি তাইতো
আমি এক বক্সঅফিস সাড়া না জাগানো

                   অনামী কবি...