ব্লগ সংরক্ষাণাগার

শনিবার, ১ জুলাই, ২০১৭

তৈমুর খান


##--- বাবার ক্ষেত

বাবার ক্ষেত পাহারা দিচ্ছি
এই রাত নেমে আসছে
রাতের বিষণ্ণ ডানা
ঢেকে দিচ্ছে মৃদু প্রদীপ
শস্যগুলো হাত বাড়াচ্ছে
: কোলে নাও ! একবার আদর করো!

চারিদিকে কুহক ছড়িয়ে পড়ে
ধ্রুব তারাটির চোখে চেয়ে থাকে বাবা
আমিও সারারাত জেগে মাটির উত্তাপ চাই
মাটির শরীরে.....

##--- কেরোসিন

কেরোসিন ফুরিয়ে গেছে
দৈন্যের লম্ফু নিভে যাবে
আলোতে কী দেখতাম আমি
অন্ধকারে কী দেখব তবে  ?

হা করা রোশনি সব
কেউ কারো কাছেই থাকে না
  ডোমনির মতো দেহ দেয়
দেহে বিদ্ধ করার মতো লিঙ্গ কই  ?

পেছন ফিরেই গেছি
দূর্বাজলে শ্যামর়াধা খই
তাই নিধি
নিধিকে বসাই কোলে
কেরোসিন নেই বলে
মনে মনে রোদ

সব জানে কেউ কেউ
হাঁসের গলায় ডাকা ভাষা
শুনতে পাই
শুনেও বুঝি না
নষ্ট সব অর্থ এর
নির্জনে বসাই ...


বিপ্লব কুমার রায়

##--- ডেটিং

অকাল বর্ষার থিকথিকে কাদায় আটকে গ্যাছে পা
জানালার ঘুলঘুলি থেকে উঠে আসছে চোখ
বিনুনির ভাজে ভাজে কদম ফুল সাজাচ্ছে অভিসার
ডেটিংয়ের কলিংবেল বাজিয়ে যাচ্ছে অবিন্যস্ত সময়সূচি
ওয়াক থু সিঁড়ি ভাঙছে, সিভিক শুয়ে আছে অনিশ্চিত সিগনেচার

বুকে রুমাল বাঁধা, রুমালে  সাবান গন্ধ
সাবানে গান
ঘাম থেকে ছড়িয়ে পড়ছে দু একটা হাস্নুহানা আহ্লাদ
দুচারটে সংসারী জোনাকি টিপ টিপ করে পরাগ ছুঁয়ে দিচ্ছে

ব্যাঙ মিলনের দৃশ্যও ক্যামেরাবন্দী হয়
আর ডেটিং শুধু মিসকল দিয়ে যায়

##-----      ঘুঘু

উপচে পড়ছে প্রেম বাইকের হাসি
গুমোট সাইকেল খুলে নিচ্ছে সেন্ড্র গেঞ্জি
মেডিকিওরের ডিটেলস হিসেব নিচ্ছে ধৈর্যের

জাতীয় সড়ক ইঞ্জিন প্রাচুর্যে
পেনকিলার আর মলম খুঁজছে
ভ্যাকূম ক্লিনার বেয়াদপ আবর্জনা

হাই ভোল্টেজ ইলেকট্রিক তারে
বসে আছে একাকী এক ঘুঘু
তরঙ্গ প্রবাহে বুঝে নিচ্ছে সময়ের স্থবিরতা


কাজল দাস


##--- দ্রাঘিমা ও আগুন

সংযোগ হয় এভাবেই
আর দ্রাঘিমায় ফুটে ওঠে কমিশনার
কিছু কিছু সিলপ্যাক,
কোমরের টেবিল ছুঁয়ে
ছায়ারা ঢেউ তোলো
যেন জমাট বাধা নাভির শহর
কালো কালো সাহাপুর
একের পর এক ভেঙ্গে দ্যায়
         তোমাকে আমার মাঝে......


আদনানুর রশিদ

 ##--- হ্যালুসিনেশন ২


পকেটের ভেতর ছনাৎ ছনাৎ খুচরোকথা,
অডিটোরিয়ামের শেষ প্রান্ত আধিভৌতিক প্রেত,
প্ল্যানচেট এ যাকে ফিঙ্গারিং করে ডেকেছিলাম
সেই ই হয়তো !

' ই-মেইল পাঠাবেন অভ্রফন্টে --
স্কাইপ বা ওমেগলে এই ন্যাড়া মুণ্ডু দেখাবেন না প্লিজ,
পিলে চমকে যায় --
রাস্তায় কি কাদা ! উফ ! '
সবকিছুই চায়ের কাপে মেশাচ্ছি ।

মদ-কে 'দ্যা লাস্ট সাপার' এর মতো গিলে
এখন নিজেরাই সদলবলে ' ওয়াকিং ডেড ' ।
ভি সি আর এ ঘুরপাক খায় ব্ল্যাংক ব্লুরে ডিস্ক  ।

তাড়াহুড়োয় দরোজায় ডোন্ট ডিস্টার্ব মি নামক
ৎ ঝোলাতে ভুলে গেছি ;

স্কাইপে আবার দেখা হবে প্রাক্তন প্রেতের সাথে !

ঐন্দ্রিলা মহিন্তা

##--- আষাঢ় কণা

(১) .....
একটা করে জমিয়ে রাখা বৃষ্টি ,
তন্দ্রাচ্ছন্ন আষাঢ়ের মাথায় এসে হাত বুলোয় --
ব্যঙ্গ করে ঘুনশরীরটা ফেলে গ্রিলে আঘাত করে ॥

       (২) .....
পুকুরঘাটের শান বেয়ে উঠে আসা পদ্মপাতার 
চোখ চিকচিক করে ; সূর্যপ্রণাম বাসনায় 
তার শূণ্য কমন্ডৌল-ও আজ বর্ষা চাতক ॥ 

      (৩) .....
ছাদের শিরদাঁড়া বেয়ে নামতে থাকা 
জলের শরীরে , সযত্নে বুনো সবুজ আল্পনা এঁকে চলে --
ইঁট বার করা বৃদ্ধ ঘর-ও 
আঁচলা করা হাতে , আষাঢ়-যৌনতায় শান্তি খোঁজে ॥




##--- বোবা কথা

১ .....
রোজ রাতে অভুক্ত  শরীরটায়
মৃত্যুখিদে চাগার দেয় ,
মাঝরাতে ঠোঁটে করে চিতাকাঠ সাজিয়ে চলে !
সারাগায়ে নুন মেখে শ্রাবণ ডাক দেয় .......॥

২ .....
বাতি নিভিয়ে --
ওয়ার্ডওয়াথের আত্মা এসে চুমু খায় ;
ছাদে পড়ে থাকা রক্তমাখা 'হে ' দেখে ,
নাসরিন তত্ত্বে দেহ-বিলীন হয় ॥


পবন বর্মন


##--- একটা আইসক্রিম


একটা আইসক্রিমের ঘুম ভাঙতেই
চিৎকার করে উঠে
কে কোথায় আছো বাঁচাও বাঁচাও !
ডাক শুনে অনেকেই এসেছে ঠিক
কিন্তু মনের ফুল পাল্টে যাচ্ছে সহজেই ।
একদিক আকাশ একদিক মানুষ
বাতাস ,রোদ ,উষ্ণতা অরো অনেকেই এসেছে  ।
সব শরীর নগ্ন করে
মুখ ভিজিয়ে বড্ড বড্ড চুমু খাচ্ছে আইসক্রিমে ,
এটা একটা অশ্লীল ব্যাপার ।
একটা আইসক্রিম ,তার মধ্যে এত গ্রাহক
কার ঠোঁটে জুটাবে আসল টেস্ট ।

চন্দন দাস


##-----একটা অনিঃশেষ রাতের কবিতা

এইখানে রাতের পর রাত জমা হয়

সাদা পাতায় কালো অক্ষরে অক্ষর লিখে রাখি

জীবন--মৃত্যুর মাঝে যেটুকু সময়!

প্রেম ভালবাসা সম্পর্ক কিছুই লেখা নেই

আদিখ্যেতার নমুনা কিছু আছে -

ওই যেমন বিবাহ বন্ধুত্ব আত্মীয় স্বজন পরিজন

একটা তালেগোলে পাকানো গুরুচাণ্ডালী বিষয়

শব্দের গায়ে যেটুকু আশ্বাস জড়িয়েছি

ওসব জোনাকিদের কাছ থেকে ধার করা।

টেবিলের ওপর মোমবাতি বহুযুগ নিভেগেছে

এখন ওটুকুই ভরসা এরকম গভীর রাতে !

কঙ্কালসার ভাঙাচোরা বর্ণের নিস্তব্ধ কবিতা

ডি.এন.এ পরীক্ষা হলে সামনে আসবে

প্রতিরাতের কত রক্তক্ষরণ ইন্দ্রিয় জুড়ে -

চক্ষু-কর্ণ-নাসিকা !

========================

বিশ্বাস একটা ভুল শব্দ

একটা অস্বাভাবিক আত্মহত্যা! মৃত্যু!

শবদেহের চারপাশ ঘিরে আটকে আছে

যুক্তি-তর্ক পাল্টা যুক্তি ময়নাতদন্ত

ততক্ষণে লাশটার তিনবার মৃত্যু ঘটেছে।

কয়েকজন বলছে ছেলেটা বড্ড লোভী ছিল

কেউ বলছে ছেলেটা খুব অভিমানী ছিল

আবার অনেকে বলছে বড় অহংকারী ।

দাওয়ায় বসে শুধু তার মা আকাশ দেখছে

আর বিড়বিড় করে ছেলেটা বড্ড জেদি ছিল

সাত বছর ধরে একজনকেই ভালবেসেছে

    মানুষকে বিশ্বাস করেছিল!
============================

প্রতিদিন ফুলদানিতে নতুন নতুন ফুল সাজাও

আমাকে মুগ্ধ করার লোভে ভুলেযেতে বসেছ

      বাগানের প্রতিটি ফুল আমার ভীষন প্রিয়।

আমার শখের বাগানে পা টিপেটিপে ঢুকে পড়ো

পছন্দ মতো; ধর্ষক কাঁচি-র ডগায় ছেঁটেফেলো

                          এক-একটা সৃষ্টি-সুখের বৃন্ত!

আমি শুয়েথাকি প্রতিটি বৃন্ত-মূলের শরীরে শরীরে

আমাকে অবাক করে; তুমি আমাকে দেখতে পাওনি!

আমাকে ছুঁ-তে পারেনি তোমার পরিপাটি হাতের দক্ষতা।

নিগূঢ় সান্ধ্য তপস্যা আমাকে মুগ্ধ করার লোভে

ভুলেযেতে বসেছ,  আজো জানা হয়ে উঠেনি

         

               আমার ইচ্ছেটা কি?